
ফাইল ছবি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণ হত্যার চিত্র তুলে ধরেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের প্রতিবেদন। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘর্ষে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন। যার মধ্যে শতাধিক ছিল শিশু। ইউনিসেফ এ শিশুদের হত্যাকাণ্ডের তথ্য যাচাই করছে। একই সঙ্গে তাদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন বলছে, শিশুরা এ সহিংসতা থেকে রেহাই পায়নি। অনেককে হত্যা, পঙ্গু ও নির্বিচারে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে অমানবিক অবস্থায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে।
ধানমন্ডিতে ২০০টি ধাতব গুলির আঘাতে ১২ বছর বয়সী এক শিশু অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মারা যায়। নারায়ণগঞ্জে ছয় বছর বয়সী এক শিশু বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে সংঘর্ষ দেখার সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। আজমপুরের এক ১২ বছরের কিশোর জানায়, ৫ আগস্টের সহিংসতায় চারদিকে গুলি ছোড়া হচ্ছিল। সে এক ডজনের বেশি মৃতদেহ দেখেছে।
নারীদেরও শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের হুমকি দেয়া হয়েছে। তাদেরকে বিক্ষোভে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখতে নানারকম ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
ইউনিসেফ বলছে, এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে তিনটি ক্ষেত্রে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
১. নিহত শিশুদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ২. আটককৃতদের মুক্তি, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ৩. পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার করে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ইউনিসেফ বলছে, শিশুদের অপরাধী হিসেবে না দেখে তাদের যত্ন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী সাব্যস্ত শিশুদের জন্য বিকল্প বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ বর্তমানে পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। সংস্কারের মাধ্যমে দেশের শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।
আপন দেশ/এমবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।