
মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল হাতে ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক ফাহমিনা আক্তার
মানুষের জীবনের যেন কোনো মূল্যই নেই কিছু ব্যবসায়ীদের কাছে। রোগ মুক্তির জন্য মানুষের ভরসা ক্লিনিকগুলো। কিন্তু ওই ক্লিনিকেই রোগ নির্ণয়ের মত বিভিন্ন টেস্ট করা হয় মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল দিয়ে। তাও আবার চার বছর আগের জন্য ওষুধ দিয়ে। রোগ নির্ণয়ের এ টেস্ট করা হতো ঢাকার নবাবগঞ্জের স্বনামধন্য মুক্তি ক্লিনিকে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযানে মুক্তি ক্লিনিকের এ গোমর ফাঁস হয়ে যায়। অভিযানে বিপুল মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট (স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ব্যবহৃত রাসায়নিক মিশ্রণ) পাওয়া গেছে।
এদিকে, শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোক্তা অধিদফতরের অভিযানের ওই ভিডিও যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় উপজেলাজুড়ে।
মুক্তি ক্লিনিকের মত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এ ধরনের বিবেকহীন কাজ করতে পারে। এটা বিশ্বাস করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ।
অভিযানকালে দেখা যায়, মুক্তি ক্লিনিকের একটি ফ্রিজে রিএজেন্ট রয়েছে। অভিযানে নেতৃত্বে দেয়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফাহমিনা আক্তার সরজমিনে গিয়ে দেখতে পান রিএজেন্ট রাখা বেশ কয়েকটি টিউবের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অথচ মেয়াদোত্তীর্ণ প্লাস্টিকের পাত্রে রিএজেন্ট সংরক্ষণ করে সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা কমপ্লিট ব্লাড পিকচার টেস্ট) পরীক্ষার কাজে লাগানো হচ্ছে।
আরওপড়ুন<<>>শেখ হাসিনার নৃশংসতার দলিল সংরক্ষণ জরুরি: ড. ইউনূস
অভিযানে চোখে পড়ে, ২০২১ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্টও রয়েছে ফ্রিজে। এছাড়া ২০২২ ও ২০২৪ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যালের খোঁজ মিলেছে। স্পষ্ট বুঝা যায়, পরীক্ষার কাজে এগুলো ব্যবহার করা হতো। এসব অনিয়ম দেখে ক্ষীপ্ত হয়ে উঠেন ভোক্তা অধিদফতরের কর্মকর্তা ফাহমিনা আক্তার। প্রথমে তিনি ক্লিনিক বন্ধের সুপারিশ করবেন বলে হুশিয়ার দেন। পরবর্তীতে ক্লিনিকটিকে ১ লাখ জরিমানা করে সংশোধনের জন্য ১ সপ্তাহ সময় দেয়া হয়। আগামী সপ্তাহে পরিদর্শন করে অনিয়ম পেলে ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হবে বলে সর্তক করেন ওই কর্মকর্তা।
স্থানীয়রা বলেন, চিকিৎসার জন্য দোহার-নবাবগঞ্জের যে কয়টি ক্লিনিকের ওপর মানুষ বিশ্বাস আছে তার মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে মুক্তি ক্লিনিক। তারাই যদি এমন কান্ড করেন, তাহলে চিকিৎসার জন্য কাদের বিশ্বাস করবে সাধারণ মানুষ। যাদের অবহেলায় এতদিন মুক্তি ক্লিনিকে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের শাস্তিও দাবি করেন তারা। এছাড়া ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে আরেও সর্তক হওয়ার আহবান জানান স্থানীয়রা।
গ্রাজুয়েট অ্যাসোসিয়েশন অব নবাবগঞ্জের আহবায়ক ও সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. আবুল হোসেন খন্দকার বলেন, হাসপাতালের মত একটি জায়গাতেও ভেজাল হয়। এটা অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয় কাজ। মুক্তি ক্লিনিকে মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল বিভিন্ন রোগের টেস্ট করা হতো। যা ভোক্তা অধিদতরের অভিযানে ধরা পড়েছে। শুধু জরিমানা যথেষ্ট নয়, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষদের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত। সে যদি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠবিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
আপন দেশ/এমএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।