
ফাইল ছবি
ঢাকার সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঘটে যাওয়া পুলিশের নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল ছাত্র-জনতা। আর সেখানে তাদের অন্তত ২০ হাজারের বেশি গুলতির মার্বেল সরবরাহ করেছিলেন যুবদলের নেতা ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওন। সম্প্রতি এমন তথ্য উঠে আসে সে সময় ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া ও মার্বেল দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে। যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এ নেতার সে সহযোগিতা সাভার এলাকার ছাত্র-আন্দোলনে অন্যতম বড় ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন তারা।
ছাত্র আন্দোলনের দিনগুলোতে সাভারের থানা রোড, পাকিজা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এলাকায় নৃশংস হামলা করে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সরকারের দোসররা। তৈরি হয় মরদেহের সারি। এর মধ্যেই ছাত্র-জনতা হাতের কাছে যা পান তা দিয়েই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কেউ অবস্থান নেন সড়ক বিভাজকের পাশে, কেউ কোনো ভবনের পাশে, কেউ বা টিন দিয়ে ঢাল বানিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। এভাবেই পুলিশের গুলি থেকে নিজেদের রক্ষা করেন। আবার একইভাবে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল গুলতি দিয়ে প্রতিরোধ। সে সময় গুলতির হামলা পুলিশকে হয়রানি করে তোলে। যুবদল নেতা শাওনের ব্যতিক্রমী এ সহযোগিতা এখনো মনে রেখেছে সাভার উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্র-জনতা।
স্থানীয়রা জানান, সাভার উপজেলায় আন্দোলন চলাকালীন যুবদল নেতা শাওন ছাত্র-জনতাকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, খাদ্য সহায়তা, বিশেষ করে বিভীষিকাময় ওই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক রুটি-কলা ও পানি সরবরাহ করেন। এমনকি বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের অনেক আন্দোলনকারীকে নিজের বাড়ি এবং আত্মীয়স্বজনের বাসায় রেখে থাকা-খাওয়া ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।
সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. হিমেল। অস্থির সেসব দিনে ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। হিমেল বলেন, আমরা ১৫ জুলাইয়ের পর যখন আন্দোলনে জড়াই, ১৬ জুলাই হল বন্ধ করা হয়, দোকানপাটও বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন আমাদের কিছু বন্ধু যারা ইসলামনগর ছিলেন। আমরা সেখানে ছিলাম। তখন শাওন ভাই খাবার দিয়েছেন। আমি তাকে জানাই, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের লোক নই। তবু ভাই সহযোগিতা করেন। ২০ জুলাই যখন ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে গিয়ে র্যাব-পুলিশ গ্রেফতার করে, তখন সবাই আতঙ্কিত হয়। আমিও আতঙ্কিত হই, তখন শাওন ভাইর সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমাকে তিনি থাকতে দেন।
তিনি বলেন, ওই সময় টানা এক কাপড়ে ছিলাম। তখন ভাই (শাওন) আমাকে জামাকাপড় কিনে দেন। থাকা-খাওয়ার সব সুবিধা দেন। তার বাসায় আত্মগোপনে ছিলাম। ৪ আগস্ট জাবি যাই। পরে মার্চ টু ঢাকা যাই। আমার সামনেই শ্রাবণ গাজী, আজিফ মারা যায়। সাভারে প্রচণ্ড গোলাগুলি চলে। তখন ভাইকে কল দিই। ভাইয়ের থেকে শুনি—হাসিনা চলে গেছেন।
আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শাওন ব্যতিক্রমী সহায়তা দেন উল্লেখ করে জুলাই আন্দোলনের এ কর্মী বলেন, আন্দোলনে পুলিশ যখন নৃশংসতার আশ্রয় নেয়, তখন আমরাও প্রতিরোধ গড়ে তুলি। ওই সময় ভাই আমাদের মার্বেল ও গুলতি কিনে দেন। টুথপেস্ট, মাস্ক ও লাইটার কিনে দেন টিয়ার গ্যাসের শেল থেকে বাঁচার জন্য।
একই কথা জানান জুলাই আন্দোলনে সাভারের অন্যতম রক্তক্ষয়ী এলাকা সাভারের থানা রোড এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাভার কলেজের শিক্ষার্থী মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা প্রথম থেকেই এ আন্দোলনে অংশ নিই। সে সময় ছাত্রদের একত্র করে মাঠে নামাতে ভূমিকা রাখেন শাওন। আমাদের পানি, খাবারের ব্যবস্থা করে দেন। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের অনেক সঙ্গী আহত হচ্ছিল, তাদের হাসপাতালে নেওয়া, সেখানে দ্রুত চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করাসহ নানাভাবে সহযোগিতা করেন তিনি।
সাভারের তেঁতুলঝোরা ইউনিয়নের হেমায়েতপুর এলাকার বিএনপি পরিবারের সন্তান ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওন। তার চাচা হাজি জামাল উদ্দিন সরকার ইউনিয়ন যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি থানা বিএনপির একবারের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৯৩ সাল থেকে টানা ১৯ বছর সভাপতি এবং ঢাকা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
যুবদলের নেতা ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওন বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আমাদের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিলেন। জুলাই আন্দোলন আমাদের সে ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা নামক পাথর থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দেয়। তাই আমরা সবাই যার যার জায়গা থেকে নিজের মতো ভূমিকা রাখি। আমি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখি। তাদের খাবার, পানি, চিকিৎসা সহায়তা করি। এ ছাড়া পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসের শেল থেকে রক্ষা পেতে তাদের পেস্ট দিই। আর পুলিশের গুলি থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ছাত্র-জনতাকে গুলতি ও মার্বেল সরবরাহ করি। এরপর দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়। এখন আবার দেশ গড়ার পালা।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই আমরা। সেজন্য আমরা কাজ করছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত দেশ বদলের ৩১ দফা প্রচারে আমরা কাজ করছি।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।