Apan Desh | আপন দেশ

জামালপুরে ছেলেকে মারধোর, জমি দখলের প্রতিবাদে অস্ত্র হাতে সাবেক মন্ত্রী

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:০৩, ৪ এপ্রিল ২০২৫

আপডেট: ২৩:৪৬, ৪ এপ্রিল ২০২৫

জামালপুরে ছেলেকে মারধোর, জমি দখলের প্রতিবাদে অস্ত্র হাতে সাবেক মন্ত্রী

ছবি : আপন দেশ

দীর্ঘ আঠাশ বছর পর জামালপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ের দখল পেতে এবং চেলেকে মারধোরের প্রতিবাদে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেছেন সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক। দলীয় নেতা-কর্মীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এ সদস্যের বিরুদ্ধে। তবে তিনি বলছেন, তার ছেলেকে মারধোর এবং তার জমি উদ্ধারে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন।

মঙ্গলবার (০১ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (০৩ এপ্রিল) সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রীর আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ক্লিপ দুটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছড়িয়ে পড়ে। তবে নিজের বড় ছেলেকে মারধর করা হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন সিরাজুল হক। তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের দুলাভাই।  

এক মিনিট ১৩ সেকেন্ড এবং ২০ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, জামালপুর পৌর শহরের স্টেশন বাজার মোড় এলাকায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সমাগম। সেখানে সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হককে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তার ডান হাতে একটি পিস্তল। তিনি পিস্তলটি বারবার উপরের দিকে প্রদর্শন করছেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, আমার ফাঁসি হলে হবে। আমি ফাঁসি মেনে নেব। তাও গাদ্দারকে মেরে ফেলব। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে সিরাজুল হক তার একদল অনুসারী নিয়ে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন এবং দলীয় নেতাদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। 

এ নিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এ ঘটনাকে ‘দলের ঐক্যের উপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওই দিনের ঘটনার বিষয়ে সিরাজুল হক বলেন, ঘরটা বাবা আমার ছেলেকে দিয়েছেন। ২৮ বছর ধরে ঘরটা নিয়ে অফিস দিয়েছে। ২৮ বছরে ভাড়া হয়ছে এক কোটি ২০ লাখ টাকা। বিষয়টা নিয়ে আমার ছেলে গেছে কথা বলতে। আমার ছেলে বলছে ঘরটা ছেড়ে দেন। আমার ছেলেকে রেদুয়ান, ভাগ্নে রুমেল মারছে। আমারে ফোন করছে। আমার ছেলেরে তো আমি কোনদিন চড়ও দেইনি। আমার লাইসেন্সধারী রিভলবারটা তো সরকার আমার সিকিউরিটির জন্য দিয়েছে। আমি আমার নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র নিয়ে গেছি। আমি খালি হাতে যাব কেন? আগামী মঙ্গলবার ঘর ছেড়ে দিবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। 

গাদ্দার শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই গাদ্দার  হয়ছে। আমার পিএ ছিল লোটন। লোটন আমার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। ওর ধমনীতে, পা থেকে মাথা পর্যন্ত শরীরের রক্ত, শিরাগুলো আমার টাকা-পয়সায়। আমার টাকা-পয়সায় চলেছে। আমার সঙ্গে থেকে টাকা-পয়সা বানাইছে। অথচ ওর সামনে আমার ছেলেকে মারছে সে কোন প্রতিবাদ করে নাই। 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের ভাই আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া লোকমান আহাম্মেদ খান লোটন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে পালন করছেন। 

এ প্রসঙ্গে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি উত্তেজিত কন্ঠে বলেন, এটা আমাদের পারিবারিক বিষয়। এ বিষয়ে কোন বক্তব্য নেই। 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ফোনে বলেন, অফিসের ঘরটা তার। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। তিনি ঘর ছাড়িয়ে নিবেন এটা তিনি বলতেই পারেন। তবে তিনি যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন সেটা সঠিক হয়নি।

জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার ফোনে বলেন, ওই জায়গায় সিরাজ ভাইয়ের নেতৃত্বেই পার্টি অফিস করা হয়েছে। জোড়পূর্বক দখল করার কোন সুযোগ নেই। তিনি আমাদের বড় ভাই। তিনি আমাদের অভিভাবক তার বিরুদ্ধে আমার কোন মন্তব্য নেই। 

আপন দেশ/জেডআই/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়