Apan Desh | আপন দেশ

বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে দামেস্ক, পালিয়ে গেলেন প্রেসিডেন্ট আসাদ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:২১, ৮ ডিসেম্বর ২০২৪

আপডেট: ১২:০০, ৮ ডিসেম্বর ২০২৪

বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে দামেস্ক, পালিয়ে গেলেন প্রেসিডেন্ট আসাদ 

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা বেষ্টিত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ

সিরিয়ার গুরুত্বপুর্ণ শহর হোমস দখলের পর রাজধানী দামেস্কে ঢুকে নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছেন বিদ্রোহীরা। বিরুপ পরিস্থিতি বুঝে পালিয়ে গেছেন 
প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। তিনি বিমানে করে অজানা গন্তব্যের দিকে রওয়ানা দিয়েছেন। দুজন জ্যেষ্ঠ সিরীয় কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকালে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। তবে বাশার আল-আসাদ দামেস্ক ছাড়লেও কোথায় গেছেন, সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধারা দামেস্কে ঢুকে পড়েছে। শহরটির বিভিন্ন জায়গায় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। তোপের মুখে দেশ ছেড়ে ইরাক পালাচ্ছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সেনাবাহিনী। 

ইরাকের আনবার মিডিয়া সেন্টার এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছে। তাতে দেখা যায়, সিরিয়ার হাজার হাজার সেনা ইরাকে প্রবেশ করছে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, সিরিয়ার সেনাদের খাবার দিচ্ছে ইরাকি জনগণ। 

এ আগে ভোরেই সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হোমস শহর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেয় বিদ্রোহী যোদ্ধারা। ২০১১ সালে এই শহর থেকেই প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বিরোধী বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল। 

মাত্র এক দিনের লড়াইয়ের পরে রোববার ভোরে হোমসের মূল শহরটির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার কথা জানায় বিদ্রোহীরা। এখন তারা রাজধানী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যে দামেস্কের উপকণ্ঠে গোলাগুলির শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই মধ্যে খবর এসেছে দামেস্ক ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ।

হোমসের কেন্দ্রীয় শহর থেকে সরকারি সেনা প্রত্যাহারের পর হোমসের হাজার হাজার বাসিন্দা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ‘আসাদ চলে গেছে, হোমস মুক্ত’ এবং ‘সিরিয়া দীর্ঘজীবী হোক, বাশার আল-আসাদের পতন হোক’ স্লোগানে নাচ-গানে মেতে ওঠেন।

বিদ্রোহীরা আকাশে ফাঁকা গুলি চালিয়ে হোমসের বিজয় উদযাপন করেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

হোমসের পতনকে বিদ্রোহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরটি সিরিয়ার কৌশলগত কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এটি দখলে নেয়ার ফলে বিদ্রোহীরা গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে ক্রসরোড এম-ফাইভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। উপকূলীয় অঞ্চল লাটাকিয়া থেকে দামেস্ককে যাওয়ার মূল সড়ক এটি। লাটাকিয়ায় রাশিয়ার নৌঘাঁটি রয়েছে।

সুন্নি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের কমান্ডার আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি, হোমস দখলকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন। যেসব সরকারি সেনা অস্ত্র সমর্পণ করবেন তাদের ক্ষতি না করার আহ্বানও জানান তিনি।

বিদ্রোহীরা শহরের কারাগার থেকে হাজার হাজার বন্দিকে মুক্ত করেছে। সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কাগজপত্র পুড়িয়ে তাড়াহুড়ো পালিয়েছে। 

সিরিয়ার বিদ্রোহী কমান্ডার হাসান আব্দুল ঘানি রবিবার ভোরে এক বিবৃতিতে বলেছেন, দামেস্কের আশেপাশের গ্রামাঞ্চলকে ‘সম্পূর্ণ মুক্ত’ করার জন্য অভিযান চলমান রয়েছে এবং বিদ্রোহী বাহিনী রাজধানীর দিকে তাকিয়ে আছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়