Apan Desh | আপন দেশ

ট্রাম্পের শুল্কনীতি: বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতে শঙ্কা, সুবিধা পাচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৫৩, ৪ এপ্রিল ২০২৫

ট্রাম্পের শুল্কনীতি: বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতে শঙ্কা, সুবিধা পাচ্ছে ভারত

ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন নারীরা। ছবি: রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (০২ এপ্রিল) রাতে ঘোষিত নতুন নীতিতে বাংলাদেশের গার্মেন্টস রফতানির ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবে, একই খাতে ভারতের ওপর শুল্ক মাত্র ১০ শতাংশ। ফলে দেশটির জন্য এটি এক বড় রফতানি সুযোগ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

বুধবার সকালে এ ঘোষণা শুনে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারক শাহিদুল্লাহ আজিম চরম হতাশ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আমরা জানতাম যে কিছু একটা আসছে। কিন্তু এত বড় ধাক্কা আসবে তা কল্পনাও করিনি। এটি আমাদের ব্যবসার জন্য ও হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য ভয়াবহ খবর।

উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতাদের জন্য পোশাক সরবরাহ করে আজিমের প্রতিষ্ঠান। তিনি জানান, এ নতুন শুল্কের কারণে বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকতে পারে বিদেশি ক্রেতারা। যা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে দুর্বল করবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশের বাজার ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের এ শুল্কনীতির প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরকারের কাছে সহায়তা চায় পোশাক খাত: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দেশের মোট রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি যোগান দেয়। এছাড়া প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এ খাত। দেশের জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ আসে এ শিল্প থেকে। তাই এ নতুন শুল্ক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশের পোশাক শিল্প উদ্যোক্তারা সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন।

কী করতে পারে বাংলাদেশ?

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশকে এখন কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার আগে প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা বাড়ানো। সে সঙ্গে বিকল্প বাজার খোঁজা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি বাড়ানোর কৌশল নিতে হবে। আবার রফতানিকারকদের জন্য সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করতে হবে, যাতে তারা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নেতারা বলছেন, এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিষয়ক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, আলোচনা এ শুল্ক ইস্যু সমাধানে সহায়ক হবে।

আরওপড়ুন<<>>বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এ বিপর্যয় ভারতের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।

পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইভিন্স গ্রুপের প্রধান আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী বলেন, গত বছর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকেই মার্কিন ক্রেতারা ভারতকে বিকল্প হিসেবে দেখছিল। এখন নতুন শুল্কের কারণে এ প্রবণতা আরও বাড়বে।

ভারতীয় পোশাক রফতানির ওপর ট্রাম্পের শুল্ক হার ২৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৩০টি পোশাক ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে ভারতমুখী হওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির মাত্র ৬-৭ শতাংশ আসে ভারত থেকে। যা বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের তুলনায় কম। তবে নতুন পরিস্থিতিতে ভারত এ বাজারে আরও বড় অংশ দখল করতে পারে।

ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে শ্রীলঙ্কার পোশাক শিল্পও। দেশটির পণ্যের ওপর ৪৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যা বাংলাদেশের চেয়েও বেশি। শ্রীলঙ্কার প্রায় ৪০ শতাংশ পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়ে থাকে। গত বছর দেশটি পোশাক রফতানি করে ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। পোশাক শিল্প শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। এ খাতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ কাজ করে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যা নতুন শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সূত্র: রয়টার্স

আপন দেশ/এমএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়