
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংক বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের ফোন ট্র্যাকিং করা হচ্ছে। এমন অভিযোগ তুলেছেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা। বুধবার (১৫ মে) ইআরএফ কার্যালয়ে এক সভায় এ অভিযোগ করেন।
ইআরএফ সভাপতি বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, গভর্নর স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি, উনি বলেছে আসা-যাওয়া করতে থাকো ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দেড় মাস পার হলেও এখনো আমাদের সহকর্মী সাংবাদিক ভাইয়েরা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারছে না। আগে সাংবাদিকরা যেভাবে সহজে যেকোন অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন, এখন তা পারছেন না।
তিনি বলেন, গভর্নর আমাদের বলেছেন দেশপ্রেমিক হওয়ার জন্য। আমরা তো উন্মাদ দেশপ্রেমিক। আমাদের থেকে দেশপ্রেমিক লোক আর দেখছি না। আমাদের সহকর্মীরা বলছেন যে, তাদের ফোন ট্র্যাকিং করা হচ্ছে। যা খুবই ভয়ানক ব্যাপার। তাই এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে হবে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত আমাদের বলেছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। আমাদের এ কাজটি শক্ত হাতে করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতের চলমান নৈরাজ্যের একটি অংশ, সাংবাদিকদের বাংলাদেশ ব্যাংকে ঢুকতে না দেয়া। যে ৮ হাজার কোটি টাকা চুরি হয়েছে, এতে কি চোরকে বাংলাদেশ ব্যাংকে আসতে হয়েছে। এই যে ৭-৮টা ব্যাংকের মালিক একটা গ্রুপ, এদের বিরুদ্ধে কথা বলাও কঠিন। তারা সম্প্রতি আরেকটা ব্যাংককে নিয়ে নিয়েছে। তাদের পত্রিকা আছে, টেলিভিশন আছে, অনলাইন আছে।
তিনি বলেন, আপনাদের অধিকার আদায়ে আর বসে থাকার সময় নেই। রাস্তায় নামতে হবে। ইআরএফ একটি সম্মানিত সংগঠন। আপনাদের এ আন্দোলনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। এ আন্দোলন আরও বেগবান করুন। সাংবাদিকদের রিপোর্টগুলো সরকারকে সাহায্য করে। তাই এ আন্দোলন আরও জোরেসোরে চালান। দাবি আদায় করেই ছাড়ব।
ইআরএফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, এ ইস্যুটি শুধু ব্যাংক রিপোর্টারদের জন্য না। এটি সবার জন্য। ব্যাংকে যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে এটির যদি সফলতা পেয়ে যায়, তাহলে সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া শুরু করবে। আর এ হুমকি আমাদের আগামীর ভবিষ্যতের জন্য ভয়ানক। টাকা ছাপিয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি মনে করে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকে নিষেধাজ্ঞা থাকলে সরকার অনেক কিছু আড়াল করে ভালো থাকবেন, তাহলে এটা ভুল। বরং সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশ করে দিলে অর্থনীতি আরও ভালো থাকবে। দুর্নীতিগুলো সামনে আসবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। তাই সরকারের ভালোর জন্যই বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা উচিত।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে এমন একজন গভর্নরকে বসিয়ে দেয়া হয়েছে যিনি যোগ্য নন। তার যেই দুর্বলতা আছে সেটি ঢাকার জন্যই তিনি সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ গভর্নরের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো সূচকেই সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়া ডলারের দাম একলাফে সাত টাকা বাড়িয়ে দিলেন কীসের ভিত্তিতে? কিছু পীর-আওলিয়া, দরবেশকে সুবিধা দিতে গিয়েই সাংবাদিকদের এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তারা দরজায় খিল দিয়েছে, কিন্তু দরজা বন্ধ করতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দরজায় খিল দিয়েই দরজা বন্ধ করে দিয়েছে বলে মনে করলে ভুল করবে। দুদকের পর বাংলাদেশ ব্যাংকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যদি সফল হয়, তাহলে কেপিআই প্রতিষ্ঠান যেগুলো আছে সেগুলোতে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞায় সফল হবে। আমরা প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটে অবস্থান নিবো। গভর্নরকে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করতে দিবো না। আমাদের অধিকার আদায় করেই ছাড়বো।
বিএফইউজের মহাসচিব আব্দুল কাদের গণি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, ভল্টের সোনা চুরি এসবের খবর যেন জনগণের সামনে না আসে এজন্যই নিষেধাজ্ঞা। যে তথ্য নিয়ে জনগণের জন্য সংবাদ করা হয়, তা কখনো তথ্য চুরি হতে পারে না। শুধুমাত্র আর্থিক খাতেই কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবাই মিলে ভাগাভাগি করে খাওয়ার যে জায়গা সেটিই সাংবাদিকরা বন্ধ করে দিচ্ছে বলে আজ এ অবস্থা। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।
বিএফউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, আজকের ব্যাংক রিপোর্টারদের সমস্যা আরও সামনে গড়াবে। ধীরে ধীরে সাংবাদিকরা আরও সমস্যার সম্মুখীন হবেন। দল-মতের বাইরে এসে পেশাদারিত্বের জায়গায় আমাদের ঐক্য গড়তে হবে। প্রেসক্লাবে আমাদের সকল সংগঠন সংঘবদ্ধ হয়ে আগাতে হবে। অতীতেও আমরা সংঘবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায় করেছি। শেয়ার বাজার, ডলার বাজারে এসব অপকর্ম করা হয় এগুলো তো সেই কর্মকর্তারাই ঘটান। সাংবাদিকরা শুধু তা লিখে ধরেন।
আপন দেশ/এবি/এসএমএ
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।