
ফাইল ছবি
মিয়ানমারের সংকট নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আলোচনায় বসছে। মিয়ানমারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যে জটিল সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে, ভারত, চীন, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, লাওস ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) মিয়ানমার ইস্যুতে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, লাওস, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান সংকটটি আরও গভীর হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায়। রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ অংশ বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যা বাংলাদেশের সীমান্তের প্রায় তিনশো কিলোমিটার এলাকা দখল করেছে। এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমস্যা এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই বিস্তৃত।
তবে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বৈঠকে অংশ নেবেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। আসিয়ান (আসোসিয়েশন অফ সাউথ ইস্ট এশিয়ান নেশনস)-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াও যুক্ত হবে।
ভারত, চীন ও বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ-
রাখাইন রাজ্যে ভারতের অর্থায়নে কালাদান মাল্টিমোডাল প্রকল্পের কাজ চলছে। যা কলকাতা থেকে সিতওয়ে বন্দর পর্যন্ত একটি নৌপথের উন্নয়ন করছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উন্নয়ন কাজ আরও গতিশীল হবে। অপরদিকে চীন রাখাইন রাজ্যের চকপিউ এলাকায় একটি সমুদ্রবন্দর তৈরি করেছে। যা তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গ্যাস ও তেল পাইপলাইন নির্মাণের সুবিধা প্রদান করছে। এ দুই শক্তির মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান একও হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশকে এ বৈঠকের মাধ্যমে একটি সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়, বর্ডার সুরক্ষা, অপরাধ দমন ও মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে।
বাংলাদেশ কী অর্জন করতে পারে?
মিয়ানমার সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুতর জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উপর প্রভাব। বাংলাদেশের সরকার মিয়ানমারের পরিস্থিতি শান্ত হলে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চাচ্ছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ এ বৈঠকের মাধ্যমে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করতে ও একই সঙ্গে আরাকান আর্মির সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হতে পারে।
এছাড়া মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি ও আরাকান আর্মির ক্রমবর্ধমান প্রভাব বাংলাদেশের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন যে, এ বৈঠক একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে। যেখানে বাংলাদেশ আসিয়ান দেশগুলোর সমর্থন পেতে ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করতে সক্ষম হতে পারে।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন, ভারত, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের বৈরিতা থাকা সত্ত্বেও তাদের অবস্থান কিছু ক্ষেত্রে অভিন্নও হতে পারে। চীন ও ভারতের স্বার্থের মধ্যে প্রাথমিকভাবে বিরোধ থাকলেও তাদের মধ্যে 'কনভার্জেন্স' বা বোঝাপড়া তৈরি হতে পারে। যা মিয়ানমারের ভবিষ্যত সম্পর্কিত আলোচনাকে আরও ফলপ্রসূ করতে সহায়তা করবে।
অপরদিকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও তাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন। এ বৈঠকটি বাংলাদেশের জন্য সে উদ্যোগের সমর্থন বাড়ানোর সুযোগ হতে পারে।
অতএব মিয়ানমারের সংকট ও এর প্রভাব বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ বৈঠক বাংলাদেশকে একটি সুযোগ দিতে পারে। যাতে তারা রোহিঙ্গা সমস্যা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একটি কার্যকর সমাধান বের করতে পারে।
আপন দেশ/এমবি
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।