
ছবি : আপন দেশ
বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতি ও তাদের পৃষ্ঠপোষক-দোসরদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘সার্বভৌম নাগরিক সমাজ’। সোমবার ২০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের সুশীল সমাজের সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও দেশ প্রেমিক নাগরিক ও ছাত্র-জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে তিন দফা দাবি পেশ করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতি এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক ও দোসরদের আদিবাসী দাবীর অন্তরালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার সুপ্ত পরিকল্পনা দেশবাসীর কাছে ফাঁস করে দিয়েছে ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’। এ কারণে বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতি, তাদের পৃষ্ঠপোষক ও দোসর বামপন্থী লাল সন্ত্রাসীরা একজোট হয়ে ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’র বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রপাগান্ডা ও অপপ্রচারে মাঠে নেমেছে। মিথ্যা মামলা করেছে, দু’জন সমর্থককে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। হয়রানী করা হচ্ছে সংগঠনটির সদস্যদের, যা অত্যন্ত দু:খজনক ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
তারা বলেন, গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যেভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশপ্রেমিকদের ফাঁসানো হতো, এখনও তার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু আচরণ পরিবর্তন হয়নি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা আশ্চর্য হচ্ছি যখন দেখছি- দেশ প্রেমিকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে জেলে বন্দী করা হচ্ছে, অথচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলা ও অপরাধের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এটি দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে এক ধরণের প্রহসন বৈ অন্য কিছু নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই, ধিক্কার জানাই দেশের দায়িত্বশীলদের প্রতি।
দ্রুত এর অবসানে আমাদের নিম্নোক্ত ৩ দফা দাবী বাস্তবায়ন করতে হবে-
১. ‘আদিবাসী’ শব্দটি সংবিধান বিরোধী ও দেশবিরোধী শব্দ। যে বা যারা ‘আদিবাসী’ দাবীর পক্ষে কাজ করছে এবং আদিবাসী শব্দ প্রচার করছে তারা প্রত্যেকেই রাষ্ট্রদ্রোহী। এ রাষ্ট্রদ্রোহীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার করতে হবে।
২. স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টি একটি দেশ প্রেমিক সংগঠন, যারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করছে। একটি দেশপ্রেমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া এবং তার সমর্থকদের গ্রেফতার করা সম্পূর্ণ অন্যায়। অবিলম্বে সংগঠনটির বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা তুলে নিতে হবে এবং তার সকল বন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
৩. গত ১৫ জানুয়ারি মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ভবনের সামনে স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টির উপর পুলিশের ৪টি ব্যারিকেড ভেঙ্গে আগে হামলা করে বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতি ও লাল সন্ত্রাসীরা, যা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত লাইভ ভিডিওতে দৃশ্যমান। ঐদিন সহিংস ঘটনা তৈরির অন্যতম হোতা রাখাল রাহা, অলিক ম্রি ও আরমানুল হক গংদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তাদের পক্ষে যারা সাফাই গাইছে বিশেষ করে দেশবিরোধী সংবাদ মাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও বিডিনিউজ২৪-কে নিষিদ্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, কালের কণ্ঠসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় যে, উগ্র বিচ্ছিন্নতাবাদী অলিক ম্রি ও ছাত্র ফেডারেশনের লাল সন্ত্রাস আরমানুল হক গংদের নেতৃত্বে বিচ্ছিন্নতাবাদী মিছিলটি অত্যন্ত উগ্র কায়দায় পুলিশের ৪টি ব্যারিকেড ভেঙ্গে নৃশংসভাবে সভারেন্টির পক্ষের লোকজনের উপর হামলা করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় জান বাঁচতে সভারেন্টির পক্ষের লোকজন আত্মরক্ষার্থে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে।
মূল দোষী প্রথম হামলাকারী উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে হবে এবং গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সভারেন্টি আত্মরক্ষার্থে বিচ্ছিন্নতবাদীদের প্রতিহত করেছে মাত্র। বাংলাদেশ দন্ডবিধি, ১৮৬০ এ 'সাধারণ ব্যতিক্রম' পরিচ্ছেদে ৯৬-১০৬ নং ধারা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি তার শরীর ও সম্পদের নিরাপত্তার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে কারো কোনো ক্ষতি হলে আইনের চোখে তা অপরাধ নয়। কাজেই আত্মরক্ষার অধিকার স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির রয়েছে। এনসিটিবির পাদদেশে সভারেন্টির পক্ষের লোকজন আত্মরক্ষার কাজটিই করেছে।
বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতি কর্তৃক দায়েরকৃত স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির সদস্য ও পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ উপরোক্ত ৩ দফা দাবী অনতিবিলম্বে সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে। নইলে দেশব্যাপী বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।