Apan Desh | আপন দেশ

ডব্লিউএইচওর পরিচালক মনোনয়নকালে কানাডার নাগরিক ছিলেন পুতুল!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৪২, ২৬ জানুয়ারি ২০২৫

আপডেট: ১৪:৫১, ২৬ জানুয়ারি ২০২৫

ডব্লিউএইচওর পরিচালক মনোনয়নকালে কানাডার নাগরিক ছিলেন পুতুল!

শেখ হাসিনা কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক মনোনয়নকালে কানাডার পাসপোর্টধারী তথা কানাডার নাগরিক ছিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কন্যার বিরুদ্ধে অনিয়মের নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাও চলছে। রোববার (২৬ জানুয়ারি)  দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব তথ্য জানিয়েছে।

রোববার (২৬ জানুয়ারি)  দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব তথ্য জানিয়েছে। দুদক মনে করছে, অনিয়মে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানের সম্মানজনক পদে বাংলাদেশ থেকে মনোনীত হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া দেশের জন্য মর্যাদাহানিকর। এর ফলে বিশ্বমণ্ডলে দেশের সুনাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে।  

দুদক থেকে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগের ওপর দুদকের পরিচালিত তথ্যানুসন্ধানকালে এ মর্মে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে যে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশের মনোনয়নের ভিত্তিতে পদায়নের নিমিত্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার এবং নিয়মবহির্ভূত কার্যকলাপের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দুদক দেখেছে, যুক্তিযুক্ত কোনো কারণ ছাড়াই সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী করা হয়েছে। তাছাড়া, সায়মা ওয়াজেদের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা হিসেবে প্রদত্ত তথ্যাদি যথাযথ ছিল না। ওই মনোনয়নকালে তিনি কানাডার পাসপোর্টধারী তথা কানাডার নাগরিক ছিলেন মর্মেও তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদক বলছে, ডব্লিউএইচওর ৭৬তম সম্মেলন উপলক্ষে দিল্লিতে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করে শতাধিক কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি দল উপস্থিত হন। এক্ষেত্রে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নিজের পারিবারিক প্রভাব এবং তার নিকটাত্মীয়দের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাংলাদেশ সরকারের বিপুল অর্থের ক্ষতিসাধন করেছেন।

ভিন্ন একটি অভিযোগের ওপর দুদকের অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এবং তার পারিবারিক রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহারের মাধ্যমে বেআইনিভাবে ঢাকার ‘পূর্বাচল নতুন শহর আবাসিক প্রকল্প’র ডিপ্লোমেটিক জোনে ১০ (দশ) কাঠা প্লট করায়ত্ব করেন। সে কারণে তার ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক একটি দুর্নীতির মামলা রুজু করা হয়েছে।

এছাড়া সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’ নামীয় একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে জোরপূর্বক উপঢৌকন আদায় ও অর্থ আত্মসাত করেছেন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় অটিস্টিক সেলকে ব্যবহার করে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে নিজে লাভবান হয়েছেন মর্মে প্রাপ্ত একটি অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন।  

অভিযোগ মতে, তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওপর অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে বর্ণিত ফাউন্ডেশনের নামে প্রাপ্য অর্থ করমুক্ত করিয়ে নেন। যাতে সরকারের বিপুল অর্থের ক্ষতিসাধন হয়েছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়