
ফাইল ছবি
জালিয়াতির অভিয়োগে ‘রূপায়ন সিটি উত্তরা’র ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র বাতিল করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে। রাজউকের উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু কাউছার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, রূপায়ণ চিঠি উত্তরা প্রকল্পের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র বাতিল করা জায়গার দেওয়ানি মামলার নম্বর ৫/১৩ বিষয়ে যুগ্ম-জেলা জজ আদালত স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। কিন্তু সেসব তথ্য গোপন রেখে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের আবেদন করে রূপায়ণ গ্রুপ। যাতে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রে ৫ নম্বর শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে। এ কারণে রাজউকের নগর পরিকল্পনা বিভাগের রাজউক/নঃপ্রঃ/অঞ্চল-২/১৯৫/১৫/০৩১০ স্মারক নম্বরে ২৬/৫/১৫ সালে দেওয়া ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাতিল করেছে। রূপায়ণ সিটি উত্তরা প্রকল্পের ওই জায়গাগুলো তুরাগ থানাধীন নলভোগ মৌজাস্থিত সি.এস ৫৭/৩৫ এবং এস.এ ৬০০ নম্বর দাগে। ওই জায়গার আর.এস ১২০ নম্বর খতিয়ানের ৫৯৮ নম্বর দাগের এবং সিটি জরিপে খ তফসিলের ৪ নম্বর খতিয়ানভুক্ত। দাগ নম্বরগুলো হলো-৫২৪৬, ৫২৪৭, ৫২৫৩, ৫২৫৫, ৫২৬১, ৫২৬৩, ৫২৬৪, ৫২৬৫, ৫২৬৬, ৫২৬৭, ৫২৬৮, ৫২৬৯, ৫২৭০ এবং ৫২৭১।
ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, জালিয়াতি করে রূপায়ণ গ্রুপ দখলে রাখা জমিগুলোর একাংশের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র বাতিল করেছে রাজউক। কেননা, কাজ করার সময় ওই অংশের ওপর আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে রূপায়ণ। অন্যান্য অংশ নিয়েও একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে উত্তরা আবাসিক এলাকার ১২ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন তুরাগ থানাধীন নলভোগ ও রানাভোলা মৌজায় গড়ে তুলছে ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ প্রকল্প, ভুক্তভোগী এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
জানা গেছে, সেসব জমিতে বহুতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের কাজও শুরু করেছে। এই প্রকল্পের অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্রে রূপায়ণ গ্রুপ বড় জালিয়াতি করলেও সবকিছুতে রাজউকও সমর্থন জুগিয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অনেকে রাজউকে অভিযোগ দিয়েছেন এবং কোর্টেও একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। রূপায়ণ সিটির ভেতরে থাকা প্রায় তিন একর জমির মালিকানা কোর্ট অব ওয়ার্ডস-এর আওতাধীন ভাওয়াল রাজ এস্টেটের। প্রকল্পের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকলেই হাতের বাম পাশে পড়বে এই জমিটি। এখানে প্রায় ৩০ লাখ স্কয়ার ফিটের বিজনেস কাম শপিং সেন্টার নির্মাণ করছে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড; এখানে সরকারি এবং অন্য মালিকের জমির পরিমাণ প্রায় ৩ একর।
অন্যের মালিকানাধীন জমি ও সরকারি জমি এবং আদালতের আদেশ অমান্যের বিষয়গুলো রাজউকের দৃষ্টিগোচর হলে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র বাতিল করা হয়। যদিও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আগে এ বিষয়ে সংক্ষুব্ধরা রাজউককে বারবার বললেও তা আমলে নেয়নি রাজউকের অসাধু চক্রটি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৮ মে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখা-৩ থেকে রূপায়ণ হাউজিংয়ের আবাসিক জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে বাণিজ্যিকীকরণের বিষয়ে ড্যাপ রিভিউসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খান মুকুলের নামে গেজেট হয়েছে, সেসব জমির অনেকাংশের মালিক নন রূপায়ণ চেয়ারম্যান। কোনোটার মালিক সরকার, আবার কোনোটা অন্য স্থানীয় ব্যক্তিদের মালিকানাধীন।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।