
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদী
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে বৈঠকটি হবে। এ বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্যুটি প্রধান্য পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে আজ বৃহস্পতিবার (০৩ এপ্রিল) থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি। সেখানে দুই নেতার মধ্যে বৈঠকের ইচ্ছার কথা জানিয়ে দিল্লিকে চিঠি দিয়েছিল ঢাকা। ওই চিঠির প্রতিউত্তর এসেছে দিল্লি থেকে। বুধবার (০২ এপ্রিল) দিল্লির সম্মতির বিষয়টি ঢাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের তোড়ে গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা পালান। আশ্রয় নেন ভারতে। এর তিনদিন পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আর দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন তিনি। ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বেশ চিড় ধরেছে। বেশখানিকটা বেকায়দায় প্রতিবেশী ভারত। বিশেষ করে সেভেনস্টার ইস্যুতে। সফরকালে চীনের এক অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেভেনস্টার নিয়ে মাত্র কয়েক শব্দের একটি বাক্য ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সেভেনস্টারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, নানা বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারে।’ এ নিয়ে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছে ভারত। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিশ্লেষকসহ মন্ত্রীরাও এ বাক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠাচ্ছেন।
আরও পড়ুন<<>> ড. ইউনূসের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত চীনা প্রেসিডেন্টের
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাফ বলেছেন, ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে তা নির্ভর করবে বৃহৎদেশ ভারতের আচরণের ওপর। ওই দেশে বাংলাদেশের স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী, নেতা ও খুনিদের আশ্রয় দিয়েছে। সেখান থেকেই দেশ বিরোধী চক্রান্ত করছেন তারা।
প্রধান উপদেষ্টাও ভারত ও পলাতক শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেছেন, তার উচিৎ চুপ থাকা। ভারতের উচিৎ চুপ রাখা। কিন্তু সে কথা কেউই রাখেনি। উল্টো সীমান্তের হত্যা, দখলের ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। শেখ হাসিনাও বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতার নানা চেষ্টা করছেন। সন্ত্রাসীদের উস্কে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দিয়ে।
অন্যদিকে লোপাটের অর্থ বিনিয়েগ করে পশ্চিমা বিশ্বের গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশবিরোধী সংবাদ পরিবেশন করাচ্ছেন বলেও অভিযোগ সরকারের।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।