
ছবি : আপন দেশ
নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাত বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত বর্ধিত সভা। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রতিকূলতা পেরিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল সংলগ্ন মাঠে শুরু হবে এ সভা। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে দলে উৎসবের আমেজ। দৃশ্যত এ সভা থেকে বিএনপির নির্বাচনমুখী যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।
বর্ধিত সভায় দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মহানগর ও জেলার সব থানা, উপজেলা, পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহবায়ক ও সদস্যসচিবসহ প্রায় ৪ হাজার নেতাকর্মী অংশ নেবেন।
বর্ধিত সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, অন্যদিকে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রস্তাব এবং আগামী নির্বাচন ঘিরে বর্ধিত সভা থেকে বার্তা দেয়া হবে দলের নেতাকর্মীদের। এতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। উদ্বোধনী ও সমাপনী পর্বে নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। তৃণমূলের বক্তব্য শুনবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, দেবেন নতুন বার্তা, দিকনির্দেশনা। জাতীয় নির্বাচন, আন্দোলনের প্রস্তুতিসহ নানা কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ হতে পারে এ বর্ধিত সভায়। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এবারের সভায় মূলত চারটি ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে। এগুলো হলো-৫ আগস্টের পর দেশের চলমান পরিস্থিতি, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মিত্র দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাজানো মামলার রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে নির্বাহী কমিটির প্রথম বৈঠক করেছিল বিএনপি। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বেগম খালেদা জিয়া। সে সভায় লন্ডন থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান। হোটেল লা মেরিডিয়ানে অনুষ্ঠিত সে সভাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছিন শেখ হাসিনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রস্তুতি সম্পন্ন :গতকাল বিকালে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও বর্ধিত সভা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক রুহুল কবির রিজভী নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্ধিত সভাস্থল ও কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন। বর্ধিত সভায় থেকে কী বার্তা আসতে পারে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, আমাদের এত বড় আন্দোলন গেল, আরও নানা বিষয় আছে কী ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করা যায় তাদের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সেটা আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমাদের শেষ বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হবে। এ প্রমাণ্যচিত্র তৈরি করেছে ‘বর্ধিত সভা বাস্তবায়ন মিডিয়া উপকমিটি’। এ ছাড়া বর্ধিত সভা উপলক্ষে আমরা বিএনপি পরিবার ‘আস্থা’ নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে। এরপরে রুদ্ধদ্বার কর্ম অধিবেশন, যেখানে তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেবেন। পরে সমাপনীতে তারেক রহমান নীতিনির্ধারণী বক্তব্য দেবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর জানায়, দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সকল কর্মকর্তা ও সদস্যগণ, সকল মহানগর, জেলা, থানা-উপজেলা-পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহবায়ক ও সদস্য সচিবগণ থাকবেন। বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহবায়ক ও সদস্য সচিবগণ রয়েছেন।
২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী এবং মনোনয়ন ইচ্ছুক যেসব প্রার্থী প্রাথমিক পত্র পেয়েছিলেন তারাও এ সভায় থাকছেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য সকালের নাস্তা, দুপুরে খাবার, বিকালে স্ন্যাকসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থাকবে চা-কফির ব্যবস্থা।
বর্ধিত সভা সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে অনুষ্ঠানের জন্য ছয়টি উপকমিটি করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে—ব্যবস্থাপনা কমিটি (আহবায়ক-শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি), অভ্যর্থনা কমিটি (আহবায়ক হাবিব উন-নবী খান সোহেল), আপ্যায়ন কমিটি (আহবায়ক এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত), শৃঙ্খলা কমিটি (আহবায়ক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু), মিডিয়া কমিটি (আহবায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল) এবং চিকিত্সাসেবা কমিটি (আহবায়ক রফিকুল ইসলাম)।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।