Apan Desh | আপন দেশ

শাওয়ালের ৬ রোজার গুরুত্ব-ফজিলত

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৯, ৪ এপ্রিল ২০২৫

শাওয়ালের ৬ রোজার গুরুত্ব-ফজিলত

ছবি : আপন দেশ

এক মাস সিয়াম সাধনা। দীর্ঘ অধ্যাবসায়-অনুশীলনে। অনেকটা নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। এভাবে মাহে রমজানের সৌভাগ্যে মানুষের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। এ পরিবর্তন যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ব্যক্তিজীবনে কল্যাণ বয়ে আসে। রমজান মাসের পরের মাস শাওয়াল। ইসলামে এ মাসের বেশ গুরুত্ব রয়েছে। শাওয়াল মাসে আছে বিশেষ ছয় রোজা। এ ছয়টি রোজা রাখা নবীজি (সা.)-এর সুন্নত। এ ছয় নফল রোজা রমজানের ফরজ রোজার সব ভুল-ত্রুটির ক্ষতিপূরণ। রমজানের সবগুলো রোজা রাখার পর শাওয়ালের ছয় রোজা রাখার মাধ্যমে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়। 
 
ইসলাম ফরজ নামাজের ত্রুটি-বিচ্যুতি পোষাতে নফল নামাজ রেখেছে, তেমনি ফরজ রোজার ঘাটতি পূরণেও সদকাতুল ফিতর ও শাওয়ালের রোজা সুন্নত করেছে। এ নফলগুলো ফরজের ত্রুটিগুলোর ক্ষতিপূরণের জন্য। রোজাদার যদি মিথ্যা, অনর্থক বাক্যালাপ, অসদাচরণ ও মন্দ দৃষ্টিভঙ্গি প্রভৃতি কাজ থেকে সম্পূর্ণ বাঁচতে না পারে, তাহলে তার রোজার পুণ্য কমে যায়। আর কমতি পুণ্যকে পূর্ণ করতেই শাওয়ালের ছয়টি রোজা।

শাওয়ালের রোজা রাখার বিধান
শাওয়ালের ছয় রোজা রাখা নারী-পুরুষ সবার জন্য সুন্নত। অনেকে মনে করেন, শুধু নারীরা এ রোজা রাখবেন, তাদের ধারণা ঠিক নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এ ছয় রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদের রাখার নির্দেশ দিতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণে এ রোজা রাখা উত্তম। তবে না রাখলেও কোনো অসুবিধে নেই। গুনাহ হবে না।

শাওয়ালের রোজা রাখার নিয়ম
শাওয়াল মাসের যেকোনো দিন এ রোজা রাখা যায়। তবে ঈদের দিন রোজা রাখা যাবে না। এ দিন রোজা রাখা হারাম। ঈদের পর দিন থেকেই রোজা রাখা যেতে পারে। একনাগাড়ে অথবা মাঝে ফাঁক রেখে পৃথকভাবেও রাখা যায়। মাসের মধ্যে ছয় রোজা রাখা হলেই এর সওয়াব পাওয়া যাবে। তবে ঈদুল ফিতরের পর শাওয়ালের প্রথম দিকে একসঙ্গে ছয়টি রোজা রাখাই উত্তম। অনেকে বলেন, মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাখা যেতে পারে। কারণ, মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামে বিজের রোজা। ওই সময়ে রাখলে আইয়ামে বিজের রোজারও সওয়াব পাওয়া যাবে। কেউ কেউ আবার মাসের শুরুর দিকে একনাগাড়ে ছয়টি রোজা রাখার কথা বলেছেন।

রমজানের রোজার শুকরিয়া আদায়
শাওয়ালের ছয়টি রোজার মাধ্যমে রমজানের রোজার শুকরিয়া আদায় করা হয়। যখন কোনো বান্দার আমল আল্লাহ তাআলা কবুল করেন, তখন তাকে অন্য নেক আমলের তাওফিক দেন। সুতরাং এ রোজাগুলো রাখতে পারা রমজানের রোজা কবুল হওয়ারও লক্ষণ। রাসুল (সা.) নিজে এ রোজা রাখতেন এবং সাহাবায়ে কেরামদের রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল। (মুসলিম, হাদিস : ২/৮২২)

সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব 
রমজানের ৩০টি রোজার সঙ্গে শাওয়ালের ছয়টি রোজা যুক্ত হলে— মোট রোজার সংখ্যা হয় ৩৬টি। আর প্রতিটি পুণ্যের জন্য ১০ গুণ পুরস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে— কোরআনুল কারিমে। তাহলে ৩৬টি রোজার ১০ গুণ হলে ৩৬০টি রোজার সমান (এটি পুরস্কারের দিক থেকে)। অর্থাৎ সারা বছর রোজার সমান সাওয়াব হবে। সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, রমজানের রোজা ১০ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দুই মাসের রোজার সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা। (নাসায়ি, হাদিস : ২/১৬২)

রমজানে ১০ মাস ও শাওয়ালের ছয়ে ২ মাস
সুরা আনআমের ১৬০ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি একটি সৎ কাজ করল, সে ১০ গুণ সওয়াব পাবে। এ হিসাবে যে ব্যক্তি রমজানের এক মাস রোজা রাখল, সে ১০ মাস রোজা রাখার সওয়াব পাবে। আর ছয়টি রোজার ১০ গুণ ৬০ দিন। অর্থাৎ দুই মাস। আর এ দুই মাস মিলে ১২ মাস রোজার সাওয়াব। উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমি কি সারা বছর রোজা রাখতে পারব? তখন রাসুল (সা.) বললেন, তোমার ওপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে। কাজেই তুমি সারা বছর রোজা না রেখে রমজানের রোজা রাখো এবং রমজান-পরবর্তী শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখো, তাতেই সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে। (তিরমিজি : ১/১৫৭)

ছয় রোজার ব্যাপারে ভুল ধারণা
শাওয়ালের ছয়টি রোজার ব্যাপারে কিছু ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত। অনেকের ধারণা, এ রোজা শুধু মহিলারা রাখবে। প্রকৃতপক্ষে তা নয়; বরং এ রোজা পুরুষ-মহিলা সবার জন্যই সুন্নত। মাসের শুরু-শেষ কিংবা মাঝামাঝি- সব সময়ই রাখা যায় এ রোজাগুলো। একনাগাড়ে অথবা মাঝে ফাঁক রেখে পৃথকভাবেও রাখা যায়। শাওয়াল মাসে শুরু করে শাওয়াল মাসে শেষ করলেই হলো। তবে ঈদুল ফিতরের পর শাওয়ালের প্রথম দিকে একসঙ্গে ছয়টি রোজা রাখাই উত্তম। 

প্রসঙ্গত, অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- যেকোনো কারণে রমজানের রোজা ভেঙে ফেললে শাওয়াল মাসে কাজা রোজা আগে রাখবে, নাকি ছয় রোজা আগে রাখবে। আবার এ রোজা রাখলেই কি কাজা রোজা আদায় হয়ে যাবে, নাকি আলাদা আলাদা রাখতে হবে। এর জবাব হলো, কাজা রোজা আদায় করা যেহেতু ফরজ, তাই আগে কাজা রোজা আদায় করতে হবে। আর ফরজের কাজার সঙ্গে যেহেতু নফলের নিয়ত করা যায় না, তাই কাজা রোজা ও ছয় রোজা আলাদা আলাদা-ই রাখতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত: ৫/৪৭৬)।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়